চুলের বৃদ্ধির জন্য দইয়ের ব্যবহার- Yogurt For Hair Growth in Bengali

আপনার চুল সুন্দর করতে আপনি অবশ্যই কেমিক্যাল হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করছেন। চুলের সৌন্দর্যের জন্য পার্লারে গিয়ে আপনি নিশ্চয়ই আপনার পকেট আলগা করেছেন, কিন্তু আপনি কি কখনও ঘরোয়া প্রতিকার চেষ্টা করেছেন? আপনি জেনে অবাক হবেন যে এই ব্যয়বহুল পণ্যগুলির তুলনায় ঘরোয়া প্রতিকারগুলি কেবল সস্তাই নয়, কার্যকরও। এমনই একটি দেশি রেসিপি হল দই, যা চুলকে সুন্দর করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

চুলের জন্য দইয়ের উপকারিতা আপনাকে বিভিন্নভাবে উপকার করতে পারে। আসলে দই প্রাকৃতিকভাবে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণও পাওয়া যায়। একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা অনুসারে, এটি দেখা গেছে যে চুল এবং মাথার ত্বককে সুস্থ রাখতে দই ব্যবহার করলে স্প্লিট এন্ড, চুলের শুষ্কতা এবং চুলের প্রাকৃতিক রঙের উন্নতি হতে পারে।

প্রবন্ধের এই অংশে আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে দই চুল গজাতে পারে।

দই কীভাবে চুল বাড়ায়?

দইয়ে উপস্থিত ক্যালসিয়াম এবং কেসিন (দইয়ের একটি প্রধান প্রোটিন) গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। চুলের বৃদ্ধিতে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

এ ছাড়া দইয়ে উপস্থিত জিঙ্ক চুলের জন্য উপকারী হতে পারে। দইতে উপস্থিত ফোলেটের পরিমাণ চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করতে পারে, অন্যদিকে ভিটামিন-বি6 চুলকে খুশকিমুক্ত করতে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।

চুলের জন্য দইয়ের উপকারিতা জানার পর প্রবন্ধের পরবর্তী অংশে জেনে নিন কীভাবে দই হেয়ার মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

চুলের বৃদ্ধির জন্য দইয়ের ব্যবহার
Image by Gábor Adonyi from Pixabay

কীভাবে চুলে দই লাগাবেন সে সম্পর্কে নীচে আপনাকে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধিতে তারা কীভাবে উপকার পেতে পারে তাও আপনাকে বলা হচ্ছে।

1. লেবুর রস এবং দই

উপাদান :
দুই টেবিল চামচ লেবুর রস
এক বাটি দই
নারকেল তেল 2-4 ফোঁটা
ব্যবহারবিধি:
সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
এবার এই হেয়ার মাস্কটি চুলে প্রায় ২০ মিনিট রেখে দিন।
এবার শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
এই হেয়ার মাস্ক সপ্তাহে দুবার লাগাতে পারেন।

এটা কিভাবে লাভজনক?
চুলে দই লাগানোর উপকারিতা, দই দিয়ে কীভাবে চুল গজায় সে সম্পর্কে আপনাকে উপরে তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাই এবার জেনে নিন চুলে দই ও লেবু লাগানোর উপকারিতা। চুলের জন্য দইয়ের সাথে লেবুর রস ব্যবহারেরও উপকারিতা রয়েছে। আসলে, লেবুতে ভিটামিন-এ পাওয়া যায়, যা চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া চুল ঝলমলে করতেও লেবু ব্যবহার করা যেতে পারে। এভাবে বলা যায় যে, চুল যখন গোড়া থেকে শক্ত হবে, তাদের পড়া বন্ধ হবে এবং শুষ্কতাও শেষ হবে, তখন তাদের বৃদ্ধি সহজ হবে। এ ছাড়া খুশকির জন্যও এই মাস্ক উপকারী হতে পারে।

চুলের বৃদ্ধির জন্য দইয়ের ব্যবহার
Image by Gábor Adonyi from Pixabay

2. দই এবং ডিম
উপাদান :
একটি ছোট বাটি দই
একটি কাঁচা ডিম
ব্যবহারবিধি:
কাঁচা ডিম ভেঙে দইয়ে মিশিয়ে নিন।
এবার এই দই ও ডিমের মিশ্রণটি ভালো করে মেশান প্রায় ১ মিনিট।
তারপর এই মিশ্রণটি চুলে ভালো করে লাগান।
প্রায় 10 মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
এই প্রক্রিয়া সপ্তাহে একবার পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে।
এটা কিভাবে লাভজনক?
দই এবং ডিমের হেয়ার মাস্ক চুলের জন্য উপকারী প্রমাণিত হতে পারে। উপরে উল্লিখিত হিসাবে, দই চুল বৃদ্ধির জন্য দরকারী। সেই সঙ্গে ডিমে এমন ওষুধি গুণাগুণ পাওয়া যায়, যা চুল পড়া, খুশকি এবং চুলের শুষ্কতা দূর করতে কার্যকরী কাজ করে। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে, চুলের মাস্ক হিসাবে দই এবং ডিমের মিশ্রণ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে, মনে রাখবেন যে কোনও ব্যক্তির যদি ডিম থেকে অ্যালার্জি থাকে তবে তার এই হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা উচিত নয়।

3.অ্যাভোকাডো এবং দই
উপাদান :
একটি আভাকাডো
এক বাটি দই
দুই ফোঁটা অলিভ অয়েল
ব্যবহারবিধি:
প্রথমে ছুরি দিয়ে অ্যাভোকাডো কেটে এর বীজ বের করে নিন।
এবার গ্রাইন্ডারে রেখে ভালো করে পিষে নিন।
তারপর অ্যাভোকাডো পেস্টে দই এবং অলিভ অয়েল যোগ করুন।
এবার এই মিশ্রণটি চুলের গোড়া এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন।
এরপর চুলে শ্যাম্পু করুন।
আপনি সপ্তাহে একবার এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে পারেন।
এটা কিভাবে লাভজনক?
চুল সুস্থ রাখতে অ্যাভোকাডো এবং দই দিয়ে তৈরি হেয়ার মাস্কের উপকারিতাও দেখা যায়। আসলে, দই এবং অ্যাভোকাডো উভয়েই আয়রনের পরিমাণ পাওয়া যায়। আয়রন প্রাথমিকভাবে চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

সতর্কতা/সতর্কতা
সপ্তাহে দুইবারের বেশি হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
এই পর্যায়ে এটি আপনার চোখে প্রবেশ করতে পারে, যা আপনার চোখে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে।
মাথায় আঘাত থাকলে হেয়ার মাস্ক এড়িয়ে চলুন।
চুলের মাস্ক ধুয়ে ফেলতে রাসায়নিকমুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, অন্যথায় এটি আপনার হেয়ার মাস্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
হেয়ার মাস্ক ধুয়ে ফেলতে গরম পানির পরিবর্তে ঠান্ডা বা হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন।
হেয়ার মাস্ক ব্যবহারের পর অন্য কোনো কেমিক্যাল হেয়ার মাস্ক বা রঙ ব্যবহার করবেন না, অন্যথায় এটি হেয়ার মাস্কের প্রভাবকে নিরপেক্ষ করে দিতে পারে।
গোসলের আগে হেয়ার মাস্ক লাগানোর চেষ্টা করুন। এর পাশাপাশি হেয়ার মাস্ক ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন। বিশেষ করে, যদি চুলের মাস্ক ডিম বা অ্যালোভেরা থেকে তৈরি করা হয়।
এই প্রবন্ধে আপনি পড়েছেন যে চুলে দই লাগালে কী কী উপকার পাওয়া যায় এবং কীভাবে দই চুল গজায়। এখন ছুটির দিনে আরামে হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করে এর সুবিধা নিতে পারেন। তবে উপরে উল্লিখিত হেয়ার মাস্কের বেশিরভাগ খাবারেই শীতল প্রভাব রয়েছে। তাই মাথা সংক্রান্ত কোনো রোগে ভুগলে অবশ্যই একবার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, যাতে ঠাণ্ডা লাগার ঝুঁকি থেকে মাথাকে নিরাপদ রাখা যায়। আশা করি, এই নিবন্ধটি আপনার কাজে লাগবে।

Leave a Reply