কী খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে?

You are currently viewing কী খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে?
Image by Pexels from Pixabay

গরমে সুস্থ থাকতে শরীরকে ঠান্ডা রাখা খুবই জরুরি। গ্রীষ্মকালে বাইরের তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে এবং এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খারাপ হতে শুরু করে। এ সময় শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখতে কিছু বিশেষ জিনিস অবশ্যই খেতে হবে। গরমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা জরুরি যাতে শরীরে পানির ঘাটতি না হয়। পানির অভাবে অনেক মারাত্মক রোগ হতে পারে। একই সঙ্গে গরমে হজমশক্তি ঠিক রাখাও খুব জরুরি। গ্রীষ্মকালে যদি এমন খাবার খাওয়া হয় যা শরীরে তাপ দেয়, তাহলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই এই মৌসুমে এমন ফল ও সবজি খাওয়া হয় যা শরীরে অতিরিক্ত শীতলতা জোগায় যাতে হিটস্ট্রোক বা সান স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে না। আসুন জেনে নিই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে কী কী জিনিস খাওয়া উচিত।

কী খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে?

লাউ
বোতল করলার স্বাদ শীতল। এতে প্রচুর পানি পাওয়া যায়। এছাড়া এটি পেটের জন্যও খুব ভালো। গরমে লাউ খেলে হজমশক্তিও ভালো থাকে। করলা খাওয়া গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। শাকসবজি ছাড়াও, লোকেরা লাউ রাইতা তৈরি করতে এবং গ্রীষ্মে এটি পান করতে পছন্দ করে।

পেঁয়াজ
গরমে হিট স্ট্রোক এড়াতে পেঁয়াজ খাওয়া উচিত। পেঁয়াজ গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। গ্রীষ্মকালে সবজির পাশাপাশি সালাদে মিশিয়েও খাওয়া যায়। এছাড়াও এটি রান্না করে খাওয়া উচিত যাতে এটি শরীরের উপর আরও উপকারী হয়। বাচ্চাদের গরম থেকে বাঁচাতে বার্গার বা স্যান্ডউইচে কাঁচা পেঁয়াজ যোগ করে খাওয়ানো যেতে পারে।

শসা
গরমে শসা খেলে শরীরে পানির অভাব হয় না। এছাড়া শসা সান স্ট্রোক থেকেও রক্ষা করে। ফাইবার সমৃদ্ধ শসাতে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে। এটি খেলে শরীরে শীতলতা ও সতেজতা বজায় থাকে। গরমে শসার সালাদ ও রায়তা অবশ্যই খাওয়া উচিত। শসা খেলে পেটের সমস্যাও দূরে থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি শরীরকে ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখে এবং শক্তি দেয়।

দই
দই খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। দই শুধু স্বাদেই অসাধারন নয় এটি শরীর থেকে অনেক রোগকে দূরে রাখে। গরমে দই খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং পেটের সমস্যা হয় না। দই খেলে হজমশক্তিও ঠিক থাকে। মানুষ দই দিয়ে তৈরি রাইটাও পছন্দ করে। একই সঙ্গে কেউ কেউ গরমে লস্যি পান করতেও পছন্দ করেন। গরমে হিট স্ট্রোক এড়াতে অবশ্যই দই বা বাটার মিল্ক খান।

কী খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে6
Image by Stephanie Albert from Pixabay

তরমুজ
শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং পানির অভাব পূরণ করতেও তরমুজ খাওয়া যেতে পারে। আসলে, তরমুজে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে, তাই এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। বিশেষ করে গরমকালে পানিশূন্যতার সমস্যা বেশি হয়, তাই চিকিৎসকরাও তরমুজের জুস পান করার পরামর্শ দেন। শরীরকে রিহাইড্রেট করার পাশাপাশি এটি পেট ঠান্ডা রাখতে পারে।

সত্তু পান
ভারতের অনেক জায়গায় সাট্টুও খুব ধুমধাম করে খাওয়া হয়। আসলে, সত্তু হল এক ধরনের ময়দা, যা ভুনা, ভুট্টা এবং বাজরা পিষে তৈরি করা হয়। সাট্টু বাটা তৈরি করতে, কিছু পরিমাণ সাট্টু প্রয়োজনমতো পানিতে দ্রবীভূত করা হয় এবং বাকি উপাদান (পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, লবণ, ধনে এবং লেবুর রস) যোগ করা হয়।

গ্রীষ্মকালে এর সেবন শুধু শরীর ঠান্ডা রাখতেই কাজ করে না, শরীরকে পুষ্টিও দিতে পারে। এই সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে সত্তুর একটি ঠাণ্ডা পানীয় ডায়রিয়ার সমস্যায় উপকারী হতে পারে এবং শরীরকে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হতে পারে।

কী খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে10
Image by Steve Buissinne from Pixabay

কলা
শরীর সুস্থ রাখতে কলার উপকারিতা দেখা যায়। এছাড়া এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতেও সহায়ক হতে পারে। একটি সমীক্ষা অনুসারে, কলায় 70-79 শতাংশ জল থাকে, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শরীরকে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা থেকে রক্ষা করতে সহায়ক।

সবুজ শাক সবজি
শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সবুজ শাকও ব্যবহার করা যেতে পারে। এ জন্য এগুলো সালাদ, স্যুপ বা সবজি আকারে খাওয়া যেতে পারে। এগুলিতে উপস্থিত জল ডিহাইড্রেশনের পাশাপাশি হাইপারথার্মিয়া অর্থাৎ শরীরের তাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এগুলি ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবারের গুরুত্বপূর্ণ উত্স, যা শরীরকে সুস্থ করতে পারে।

কী খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে1
Image by Steve Buissinne from Pixabay

আঙ্গুর
আঙ্গুর বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া হয়। কেউ এটি সোজা খেতে পছন্দ করেন এবং কেউ কেউ এর রস পান করেন। এছাড়াও আঙ্গুর ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে পারে । যতদূর এর শীতল প্রভাব সম্পর্কিত, এতে 80 থেকে 89 শতাংশ জল রয়েছে। এই জল শরীরকে হাইড্রেট করার পাশাপাশি ঠান্ডা রাখতে পারে ।

মেথি
মেথির ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। এতে উপস্থিত পুষ্টি উপাদান এটিকে শরীরের জন্যও উপকারী করে তোলে। এছাড়া এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতেও সহায়ক হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, মেথি বীজ একটি শীতল প্রভাব আছে, যার কারণে গুটিবসন্ত রোগীদের একটি কোমল পানীয় হিসাবে বীজের নির্যাস দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে বলা যায় যে মেথির ব্যবহার শরীরকে ঠান্ডা রাখতে উপকারী প্রমাণিত হতে পারে।

অ্যালোভেরা 
স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী অ্যালোভেরার শরীরকে ঠান্ডা রাখার ক্ষমতাও রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে অ্যালোভেরা জেলের শীতল প্রভাব রয়েছে। এই প্রভাব শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ত্বককে ময়শ্চারাইজ করতে সহায়ক হতে পারে (13)।

নারকেল জল
নারকেল জল, যা প্রতিটি ঋতুতে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে, শরীরের তাপ ঠান্ডা করতেও সহায়ক হতে পারে। একটি গবেষণা নিশ্চিত করে যে নারকেল জল শরীরকে ঠান্ডা রাখতে পারে ।

Leave a Reply